ওঙ্কার ডেস্ক: সালটা ২০০৯। ওই বছরেই এক নাবালিকাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তকে খুঁজছিল দিল্লি পুলিশ। অবশেষে ১৭ বছর পর সেই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল রাজধানীর পুলিশ। অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ১৭ বছর ধরে পলাতক ছিল। উত্তরপ্রদেশের বিজনোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম ইরশাদ আহমেদ ওরফে সোনু। একজন ‘ঘোষিত অপরাধী’ হওয়ায় পুলিশের তরফে তার মাথার দাম ২৫,০০০ টাকা ঘোষণাও করা হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে গ্রেফতারি এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল অভিযুক্ত। কোনও রকমে পাসপোর্ট তৈরি করে কুয়েতে চলে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে গিয়ে দর্জির কাজ করত সে। এক আধিকারিক বলেন, ‘২০০৯ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লির বিন্দাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারী, একটি বুটিক চালাতেন, তিনি অভিযোগ করেন, আহমেদ তাঁর প্রতিষ্ঠানে দর্জি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের উদ্দেশ্যে তাঁর ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে অপহরণ করে এবং তাকে যৌন নির্যাতন করে।’ এই অপরাধের পর গা ঢাকা দেয় আহমেদ। পুলিশ তাকে ধরার জন্য বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, সে গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হয়। পরে জানা যায়, পলাতক থাকা অবস্থাতেই সে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে। ২০১১ সালের ২৫ মে, আহমেদকে খুঁজে না পাওয়ায় দিল্লির একটি আদালত তাকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ‘আহমেদকে খুঁজে বের করা ও গ্রেফতার করার দায়িত্ব ক্রাইম ব্রাঞ্চকে দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে, পলাতক থাকা অবস্থায় আহমেদ চণ্ডীগড় থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে ২০১১ সালে কুয়েতে চলে গিয়েছিল।’ মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল সে। একটি বুটিকে দর্জির কাজ করত। বিদেশে থাকাকালীন সে আবার দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল বলে অভিযোগ। সম্প্রতি এক পারিবারিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে কুয়েত থেকে নিজের গ্রামে আসে সে। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে ১৬ জুন তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।