স্পোর্টস ডেস্ক : গুলিয়ে ফেলা হল জয়ের আবেগ আর ধর্মের ভক্তি। টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দল হনুমান মন্দিরে গিয়েছিল। ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, হেড কোচ গৌতম গম্ভীর এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জয় শাহ সবাই যান। যা ভাল চোখে দেখেননি ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। তিনি আবার তৃণমূলের সাংসদও।
খেলা ও রাজনীতির মাঝে তাঁর সমাজ মাধ্যমের এক পোস্টে বিতর্কের ঝড়় ওঠে। তিনি বলেন, এই ট্রফি সমস্ত ভারতীয়র, কোনও একটি বিশেষ ধর্মের নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ট্রফিটি হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হল ? তাঁর মতে, ট্রফিটি মসজিদ, গির্জা বা গুরুদ্বারেও নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কীর্তি এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যখন সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে গড়া টিম ইন্ডিয়া জেতে, তখন ১৪০ কোটি মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়। একজন খেলোয়াড় বা খেলা কোনও ধর্ম বা জাতের নয়, শুধু খেলার। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি বলব, টিম ইন্ডিয়া ভারতকে জিতিয়েছে। টিম ইন্ডিয়া জিতেছে, আর এটা ভারতের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।’
ভারতকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার পর মঙ্গলবার পাটনায় পা রাখেন ঈশান কিষান। বিশ্বজয়ের আনন্দের মধ্যেই বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক ঈশানকে এই নিয়ে প্রশ্ন করেন। যা শুনে রীতিমতো ভড়কে যান তিনি। টিম ইন্ডিয়ার এই উইকেটকিপার-ব্যাটার বললেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট দল সম্পর্কিত ভালো ভালো প্রশ্ন আপনাদের করা দরকার। কিন্তু, সেটা না করে আপনারা জিজ্ঞেস করছেন যে কীর্তি আজাদ কী বলেছেন ? এই ব্যাপারে আমি কীই বা আর বলতে পারি। ভাল কোনও কথা নেই ?’ বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান সাংবাদিককে চলতি বিতর্কের পরিবর্তে বিশ্বকাপ এবং দলের যাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার জন্য বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেন।
বিশ্বজয়ের রাতে হনুমান মন্দির দর্শনের পরদিন অর্থাৎ, সোমবার সকালে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে গান্ধিনগরের কাছে বিখ্যাত আদালজ মন্দিরে ফটোসেশন সেরেছেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।মন্দিরে যাওয়ার রীতি এ বারই প্রথম নয়, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ন্যাড়া (মুণ্ডিত মস্তক) হয়ে রাঁচির দেবড়ী মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন।কীর্তি আজাদের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতীয় দলের হেডস্যার গৌতম গম্ভীরও । তিনি বললেন, এই বিষয়ে মন্তব্য করে আজাদ নিজের দেশের ক্রিকেটারদের ছোট করেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,”ওঁর প্রশ্নের কোনও উত্তর দেওয়া অর্থহীন। বিশ্বকাপ জয় দেশবাসী ও ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় মুহূর্ত। আমি চাই না এই ১৫ জন ক্রিকেটারের কষ্টার্জিত ট্রফি নিয়ে কোনও মন্তব্য করে তাদের সাফল্যকে ছোট করা হোক। যে কোনও কারও মন্তব্যই গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতে গেলে সেটা দলের পক্ষে ক্ষতিকর।দলের সবাই খুব চাপে ছিল। তার পরেও যদি তাদের এই সাফল্যকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তবে ক্রিকেটারদের ছোট করা হয়। অপমান করা হয়।”
