ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী সদস্য প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক আগের মতো মজবুত নেই, বরং সাম্প্রতিক কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করতে এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন করে স্থাপন করতে হবে বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সদস্য। ডেবোরাহ রস, রো খান্না, ব্র্যাড শারম্যান, সিডনি কামলাগার-ডোভ, রাজা কৃষ্ণমূর্তি এবং প্রমিলা জয়পাল। তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এই সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষাও সমানভাবে প্রয়োজন। তাই ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতি সেই সম্প্রদায়ের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
চিঠিতে তাঁরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অনুসারে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ককে দুর্বল করবে এবং মার্কিন অর্থনীতির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে আমেরিকান বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদেরও ক্ষতি করবে। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আমদানির ভারসাম্যেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশ। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আগেও বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবং নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এখন সম্পর্ক পুনর্গঠন জরুরি।
চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমান অবস্থায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষত, এতে ভারত রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়তে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব হ্রাসের আশঙ্কা বাড়াবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিঠি শুধু কূটনৈতিক আহ্বান নয়, বরং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসন এই আহ্বান কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য কোনও নতুন পদক্ষেপ নেয় কি না।
