নিজস্ব সংবাদাতা, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের আরও এক শীর্ষ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। এবার কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের কাজের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সঁধু এবং বিবেক জোশী। বিষয়টি নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে আলাদা ভাবে চিঠিও দিয়েছিলেন তাঁরা।
আরটিআই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথনকে চিঠি লেখেন দুই কমিশনার। তবে ক্যাবিনেট সচিবালয় সেই চিঠিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে। সমাজকর্মী লোকেশ কে বাটরার আরটিআই প্রশ্নের জবাবে সচিবালয় জানিয়েছে, অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হবে না।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আরটিআই জবাবে বলা হয়েছে, চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়েছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত সচিবের কাছে তার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে এই চিঠি বিবেচনায় রাখা হবে।
অভিযোগ ঠিক কী?
দুই কমিশনারের বক্তব্য, মণীশ গর্গ সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা না করেই দায়িত্ব বণ্টন করছেন। সিনিয়র ডেপুটি, ডেপুটি, ডিরেক্টর জেনারেল এবং অন্যান্য আধিকারিকদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে, অনেক সময় মৌখিক নির্দেশে। জোশীর আরও অভিযোগ, জরুরি ফাইল চেয়েও প্রশাসনিক বিভাগের কাছ থেকে পাননি তিনি।
কমিশনের অন্দরের বিষয় কেন ক্যাবিনেট সচিবকে জানাতে হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা দাবি করেছেন, ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে এবং তা নিয়ে কমিশনের ভিতরে আলোচনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে আনা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের পর থেকেই কমিশনের অন্দরের মতবিরোধ নিয়ে চর্চা শুরু হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, ৬ নম্বর ফর্মের বয়ান বদল, এসআইআর-এর পর নাম বাদ দেওয়া ও যোগ করা নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একাধিক সিদ্ধান্তে গত ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু ও জোশী।
বিতর্কের মুখে কমিশন জানিয়েছিল, মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও বিরোধী জোট এবং ককরোচ জনতা পার্টির মতো সংগঠন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন আরটিআই তথ্য শাসক শিবির এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।