নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ল গ্রেফতারির সংখ্যা। বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাইকে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণা করার অভিযোগে পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গত শনিবার সপ্তমীর রাতে চোরবাগানের মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের গড়া বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) আলাদা ভাবে তদন্ত করছে। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তদন্তকারী দল ও ফরেন্সিক আধিকারিকরা। ঘুরে দেখেন গোটা মণ্ডপ। আগেও এই দল চোরবাগানে গিয়েছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার পাশাপাশি, শনিবার ওই সময়ে মণ্ডপে উপস্থিত সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে ক্লাব সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার ঘটনাক্রম পুনর্নির্মাণ করেছিল সিট।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই রাতে ভিড়ের চাপের মধ্যেই মণ্ডপ থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে, সবাই দ্রুত বেরিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এই ঘোষণার পরেই আতঙ্কে হুড়োহুড়ি আরও বেড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দু’জন ঘোষককে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন সেন্টু। অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। গোপন আস্তানা থেকে অন্য নম্বর দিয়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। সেই আটটি সন্দেহজনক নম্বর ট্র্যাক করেই তাঁর নাগাল পায় পুলিশ। কেন, কার নির্দেশে ওই ঘোষণা করা হয়েছিল, তা জানতে ইতিমধ্য়েই সেন্টুকে জেরা করছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তের খোঁজও চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর চোরবাগানের মণ্ডপে তদন্ত চলে। সকালে যায় কলকাতা পুলিশের সিট, তারপর ফরেনসিক দল থ্রিডি ক্যামেরায় গোটা মণ্ডপের ছবি তোলে, যাতে ভবিষ্যতে মণ্ডপ ভেঙে ফেলা হলেও ঘটনাস্থলের চিত্র ধরে রাখা যায়। সন্ধ্যায় পরিদর্শনে যায় রাজ্যের সিট। নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী এবং আইপিএস জাভেদ শামিম।
পরিদর্শনের পর অনিন্দিতা বলেন, মণ্ডপে আলো খুবই কম ছিল এবং প্রবেশ-প্রস্থানের রাস্তা অত্যন্ত সরু। দুর্ঘটনাটি মণ্ডপের ভিতরে নয়, প্রস্থান গেটের ঠিক বাইরে ঘটেছে এবং তখন জরুরি প্রস্থান গেটে তালা লাগানো ছিল বলেও পুলিশের কাছ থেকে জেনেছেন তিনি। তিনি আরও জানান, প্রতিমা নিরঞ্জনে বাধা নেই, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মণ্ডপ একই অবস্থায় রাখা হবে। নবান্নের তরফে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।