নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা আরও একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফাঁস করে দিল ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারত তথ্যপ্রমাণ সহ মনে করিয়ে দিল, জম্মু-কাশ্মীর বা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলার কোনও নৈতিক অধিকারই ইসলামাবাদের নেই।
জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঘটেছে ‘ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা’ বিষয়ক একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব চলার সময়। যেখানে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অধিকার নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানে পাকিস্তান ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ভারতকে নিশানা করার চেষ্টা করে। যার যোগ্য জবাব দেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন। সেখানে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের একটি অকাট্য সত্য তুলে ধরেন তিনি।
ভাবিকা বলেন, “এটা অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক যে, যে দেশ (পাকিস্তান) ১৯৯৯ সালে কার্গিলে নিহত নিজের সেনাদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল, সেই দেশই আজ ধর্ম, বিশ্বাস এবং দাফনের অধিকার নিয়ে গলা ফাটাচ্ছে। আপনাদের মনে করিয়ে দিই, ভারতীয় সেনাই সেই পাক সেনাদের ইসলামিক রীতি মেনে সামরিক মর্যাদায় দাফন করেছিল।”
শুধু কার্গিল নয়, পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও পাকিস্তানকে আয়না দেখায় ভারত। ভাবিকা বলেন, “পাকিস্তানের উচিত ভারতের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আবেগ দেখানোর বদলে তার অবৈধ দখলে থাকা কাশ্মীরের রাওয়ালকোটের মতো এলাকায় কী ঘটছে, সেদিকে নজর দেওয়া। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা ক্রমশ কমছে, তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তার ভারতকে জ্ঞান দেওয়ার কোনও যোগ্যতা নেই।”
একই মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ নিয়েও পাকিস্তানের মিথ্যাচারও ফাঁস করেন ভারতের আরেক কূটনীতিক রাঘু পুরী। সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী এবং মানবাধিকার বিষয়ক রিপোর্টে তথ্যগত ভুল তুলে ধরে তিনি দাউদ ইব্রাহিমের প্রসঙ্গ তোলেন।
রাঘু পুরী বলেন, “এই ব্যক্তি (দাউদ ইব্রাহিম) ২০০৩ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার অনেক আগেই ভারত থেকে পালিয়েছিল এবং বাইরের একটি দেশ থেকেই তাকে আল-কায়েদা এবং ওসামা বিন লাদেনের সহযোগী হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। আজও সে আমার দেশে ওয়ান্টেড অপরাধী এবং রাষ্ট্রসংঘের তালিকা অনুযায়ী, সে ওই একই দেশে থাকে যেখানে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং নিকেশ করা হয়েছিল।” তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্টতই পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের দিকে।
অন্যদিকে, কোভিডের সময় দাফনের অধিকার নিয়ে রিপোর্টে শুধুমাত্র গ্লোবাল সাউথকে নিশানা করায় প্রশ্ন তোলেন ভাবিকা। তিনি বলেন, “রিপোর্ট অনুযায়ী, কোভিডের সময় সমস্ত বৈষম্য নাকি শুধু গ্লোবাল সাউথেই হয়েছে। উন্নত বিশ্বে কী ঘটেছিল, তার উল্লেখ নেই কেন? মানুষের যন্ত্রণা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা কোনও বিশেষ রিপোর্টারের কাজ হতে পারে না।”
তিনি আরও স্পষ্ট বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের দাফনের অধিকার নিয়ে সওয়াল করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে রাষ্ট্র আইনি সীমার মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু আইনি সীমা নির্ধারণ হবে সার্বভৌম অধিকারের ভিত্তিতে। একজন সন্ত্রাসবাদী শুধু নিরীহ মানুষকে হত্যা করে না, একটি জাতির মনস্তত্ত্বকে আঘাত করে। আশ্চর্যের বিষয়, যারা সন্ত্রাসবাদীদের অধিকার নিয়ে এত সরব, তারা সন্ত্রাসের শিকারদের অধিকার নিয়ে চুপ।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ২৭ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের গভীরে ঢুকে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের এই কড়া অবস্থান আরও একবার প্রমাণ করল, সন্ত্রাসকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে ব্যবহার করা পাকিস্তানের মুখোশ বিশ্বের সামনে খুলে গিয়েছে।