ওঙ্কার ডেস্ক: থাইল্যান্ডে এক ১১ বছরের শিশুর বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জেরে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ধর্মীয় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মিছিলে একটি পিকআপ ট্রাক ঢুকে পড়ায় অন্তত আটজন সাধুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। এই ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে। সেদিন সকালে বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সাধারণ ভক্ত একটি ধর্মীয় পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। স্থানীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, ভিক্ষুরা সারিবদ্ধভাবে রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। সেই সময় আচমকাই একটি পিকআপ ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে মিছিলে ঢুকে পড়ে। প্রবল ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ৫ জন সাধুর মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় বহুজনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। বেশ কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ট্রাকটি চালাচ্ছিল মাত্র ১১ বছরের এক শিশু। অসুস্থতার কারণে ওই দিন সে স্কুলে যায়নি। বাড়িতে একা থাকার সুযোগে বাবা-মায়ের অগোচরে বাড়ির পিকআপ ট্রাক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। প্রায় ১০ কিলোমিটার গাড়ি চালানোর পর একটি বাঁক নেওয়ার সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এরপরই ট্রাকটি সোজা শোভাযাত্রার মধ্যে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ৩৫ জন ভিক্ষু এবং কয়েকজন সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। তবে তার বয়স কম হওয়ায় এবং দুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় শিশুসুরক্ষা আইন মেনেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একইসঙ্গে, কীভাবে এত কম বয়সী একটি শিশু পরিবারের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে শিশুটির বাবা-মায়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হবে।