ওঙ্কার ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় ফের রক্তক্ষয়ী হামলা চালাল ইজরায়েল। শনিবার ভোর থেকে গাজার একাধিক এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের জেরে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একাধিক আবাসিক ভবন। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সাধারণ মানুষের কাছে নতুন করে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হামলা।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, গাজা সিটি, মধ্য গাজার শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। আবাসিক বাড়ি, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং জনবহুল এলাকাও হামলার কবল থেকে রেহাই পায়নি। বহু মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা। চোখের সামনে বাড়িঘর ভেঙে পড়তে দেখে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে। হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশু ও মহিলাও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে আহতদের ভিড় বাড়তে থাকায় চিকিৎসা পরিষেবার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসাকর্মীর সংকটে ভুগছে গাজ়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
একটি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক সাংবাদিকও। সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি হামলার মুখে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। সাংবাদিকের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহের কাজ যে ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, সেই বিষয়টিও ফের সামনে এসেছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি ও কার্যকলাপ লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সেনার দাবি, গাজার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি সংগঠনগুলির উপস্থিতির নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্যালেস্টাইনি প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামরিক অভিযানের নামে সাধারণ নাগরিকদের জীবনই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
গত কয়েক মাস ধরে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা উদ্যোগ দেখা গেলেও বাস্তবে সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই গাজার কোনও না কোনও এলাকায় হামলা, বিস্ফোরণ কিংবা গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু পরিবার শরণার্থী শিবির, অস্থায়ী তাঁবু বা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বারবার গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসার সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। সাহায্য পৌঁছনোর ক্ষেত্রে নানা বাধার অভিযোগও উঠছে। শিশুদের অপুষ্টি এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সংঘর্ষ থামাতে এবং নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালালেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। ফলে গাজার সাধারণ মানুষের কাছে শান্তি এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে। নতুন হামলার পর ফের প্রশ্ন উঠছে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান কবে হবে এবং কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষ।