ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে। দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়া একাধিক সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা ভাবছেন। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে বিদ্রোহী সাংসদরা মহুয়ার একাধিক মন্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেন।
বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়ার একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সাংসদদের প্রত্যেকেই বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দলত্যাগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক আদর্শের কারণে নয়, বরং আর্থিক প্রলোভনের কারণেই তাঁরা দল ছেড়েছেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিদ্রোহী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁদের বক্তব্য, কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এমন গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে, যা তাঁদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, মতাদর্শগত ও সাংগঠনিক কারণেই তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছিল বলেও তাঁদের অভিযোগ। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে দলত্যাগের অভিযোগ তুলে মহুয়া মৈত্র জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র শুরু থেকেই বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সরব। তাঁর বক্তব্য, জনগণ তৃণমূলের প্রতীক দেখে তাঁদের ভোট দিয়েছেন। সেই ভোটে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মেলানো মানুষের রায়ের প্রতি অসম্মান। তিনি একাধিকবার বিদ্রোহী সাংসদদের পদত্যাগ করে নতুন করে জনসমর্থন যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণও শানিয়েছেন তিনি।