ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইরানের এক বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে। তেহরানের দাবি, কুখ্যাত মার্কিন অর্থপতি জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যুক্ত একটি নেটওয়ার্ক নাকি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মতো বড়সড় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে এবং সেই হামলার দায় ইরানের ঘাড়ে চাপানোর ছক কষা হচ্ছে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্তাদের তরফে এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ইরানের দাবি অনুযায়ী, একটি গোপন চক্র নাকি পরিকল্পনা করছে এমন এক ভয়াবহ হামলার, যা ৯/১১-এর ধাঁচে পরিচালিত হতে পারে। যার উদ্দেশ্য হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার করা হবে যে এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ইরান, যাতে দেশটিকে বিশ্বমঞ্চে আরও বিচ্ছিন্ন করা যায় এবং সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি বড় অজুহাত তৈরি হয়।
তেহরানের বক্তব্য, এই ধরনের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা সাজানো হামলার মাধ্যমে বিশ্বরাজনীতিতে পরিস্থিতি ঘোরানোর চেষ্টা নতুন নয়। ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বড় কোনও সংঘাত বা যুদ্ধের আগে জনমত প্রভাবিত করতে নাটকীয় ঘটনার ব্যবহার হয়েছে। ইরানের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এমন কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হতে পারে।
ইরানের কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের কোনও শত্রুতা নেই এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে এমন কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না তেহরান। বরং তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানকে আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে।
ইজরায়েল-ইরান সংঘাত, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং একাধিক পাল্টা হামলার জেরে গোটা অঞ্চলই অস্থির। এই পরিস্থিতিতে ইরানের তরফে এমন সতর্কবার্তা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে ইরানের এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং বিশ্লেষকদের একাংশ বিষয়টিকে সন্দেহের চোখেও দেখছেন। অনেকের মতে, বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধ বা প্রচারযুদ্ধও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এবং বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি তুলে ধরছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত হানা হয়েছিল। সেই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং গোটা বিশ্বে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
এই প্রেক্ষাপটে ৯/১১-এর মতো হামলার আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এমন কোনও ষড়যন্ত্রের সত্যতা থাকে, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই গভীর নিরাপত্তা সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
