ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক নতুন সমীকরণ।দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে বাংলাদেশে অনুষ্ঠীত হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের ঢাকার মসনদের লড়াই কার্যত গিয়ে ঠেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর জোটের মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিমুখী লড়াই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে। মুখোমুখি লড়বেন দুই রহমান।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের রাজনৈতিক পরিসরে বড়সড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে কৌতূহল ও উত্তেজনা দুই-ই তুঙ্গে। দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন শক্তির অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে বিএনপি ও জামায়াত। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। অপরদিকে জামাতের মুখ হিসাবে সামনে আসছেন আমির শফিকুর রহমান।
এবার বাংলাদেহসের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। দলটি নিজেদেরকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। নির্বাচনী প্রচারে তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। দলীয় নেতাদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশকে একটি স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে ফিরিয়ে আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিভিন্ন জেলায় সভা-সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম করেছে দল।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। জমাত গোষ্টীকে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমির শফিকুর রহমান। অতীতের বিতর্ক কাটিয়ে সংগঠনটি নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তরুণ প্রজন্ম এবং ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কের উপর ভর করে তারা শক্ত ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছে। দলীয় সূত্রে দাবি, তারা নৈতিকতা ও সুশাসনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা গিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে দুই দলের একে অপরের অতীত ভূমিকা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কড়া সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকদের সক্রিয়তা নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে পদ্মাপারে। বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবরও সামনে এসেছে, যদিও প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় টহল বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি, ভোটকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
