ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের পর অন্তরবর্তী সরকার তথা প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অবস্থান কি হবে সে নিয়ে জল্পনা তৈরি হচ্ছে পদ্মাপারের রাজনৈতিক প্রাঙ্গনে। পাকিস্তানপন্থী মনোভাব এবং প্রকাশ্যে জামাত গোষ্টীকে সমর্থনের পর বিএনপির একক গরিষ্ট জয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বাঁচানোর জন্য কি তবে রাষ্ট্রপতি পদের দিকে নজর এখন ইউনুসের, এমন আশঙ্কাও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জুলাই বিক্ষোভের জেরে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাবার পর ছাত্র সংগঠন দেশের আইন শৃঙ্খলা এবং একটি সুষ্ট সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস পরিচালিত অন্তরবর্তী সরকারের উপর। ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর দেশের সাংবিধানিক নিয়ম বদলানো থেকে শুরু করে একদা নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দলগুলিকে ফের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা, এইসব কাজে লিপ্ত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। এমকি দেশের জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষনও ঘোষনা করতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগান তিনি। একাধিক রাজনৈতিক দলের চাপে পরে তিনি এই সিধান্ত নেন বলে দাবি করেছিল বিশেসজ্ঞরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই ইউনুস স্পষ্ট ছিল যে, তাঁর ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অস্থায়ী এবং নির্বাচন সম্পন্ন করে ক্ষমতা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতিই পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেই তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
ইউনুস ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ভবিষ্যতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকতে চান। তার মধ্যে অন্যতম হল ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্যও পরিবারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
এ ছাড়া তরুণ সমাজের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প এবং দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি। যুবসমাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় করে তোলা, ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এই সব বিষয় তাঁর ভবিষ্যৎ ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সওয়াল করে আসছেন তিনি সেই অভিজ্ঞতাকেই নতুনভাবে কাজে লাগানোর ইচ্ছা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি সরল নয়। বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। ফলে প্রশাসনিক পদ ছাড়লেও দেশের নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব পুরোপুরি শেষ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নেপথ্যে থেকে পরামর্শদাতা বা নৈতিক প্রভাবক হিসেবে তাঁর ভূমিকা অব্যাহত থাকতে পারে।
