ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ জামায়াত-ই-ইসলামীর এক শীর্ষ নেতাকে আটক ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিমানবন্দরের নিয়মিত চেকিং চলাকালীন সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁর ব্যাগ পরীক্ষা করেন। সেই সময় ব্যাগের ভিতরে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের কারণ জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে প্রাথমিকভাবে দাবি তদন্তকারীদের। এরপরই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে বিশেষ নজরদারি চলছে। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সড়কপথে বাড়ানো হয়েছে তল্লাশি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছিল। সেই সূত্রেই বেলাল উদ্দিনকে চিহ্নিত করা হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং এই অর্থ কোথায় ও কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মানি লন্ডারিং বা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে, জামায়াত-ই-ইসলামী এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক নেতা একজন ব্যবসায়ী এবং বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা নিয়েই তিনি যাতায়াত করছিলেন। নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি ও ভয় দেখাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতিকে নাটকীয় করে তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ উদ্ধারকে ঘিরে ভোট কেনাবেচা, প্রচার খরচ বা সংগঠন পরিচালনার মতো নানা জল্পনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও বিরোধীদের অভিযোগ দুইয়ের সংঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে এই ঘটনার প্রভাব ভোটের আবহে কতটা পড়বে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকার হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যাংক লেনদেন, ব্যবসায়িক নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত এগোবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
