ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে জল্পনা ও গুজব নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনেইকে নিয়েও রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে তাঁর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসা ঘিরে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছিল যে তিনি নাকি সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে নিহত হয়েছেন। কিছু পোস্টে এমনও বলা হয় যে তাঁর নামে যে ভিডিও বা বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলি নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা। এই জল্পনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে সামনে আসেন নিজেই নেতানিয়াহু। একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি, যেখানে তাঁকে একটি ক্যাফেতে বসে কফি পান করতে দেখা যায়। ভিডিওতে হাস্যরসের ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “আমি তো কফির জন্যই মরে যাচ্ছি।” নিজের মৃত্যুর গুজবকে এভাবেই কার্যত বিদ্রুপ করেন তিনি। একই সঙ্গে একটি পুরনো ভিডিও ঘিরে যে দাবি উঠেছিল তাঁর হাতে নাকি ছয়টি আঙুল দেখা গিয়েছে। সেটিরও জবাব দেন। নতুন ভিডিওতে ক্যামেরার সামনে নিজের দুই হাত তুলে ধরে তিনি মজা করে বলেন, আঙুল গুনে দেখতে। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে আগের সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি হয়তো গুরুতর অসুস্থ অথবা আর জীবিত নন।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে এমন খবর এসেছে যে মোজতবা খামেনেই হয়তো আর জীবিত নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে এই বিষয়ে তাঁর কাছেও নিশ্চিত কোনও প্রমাণ নেই।
তেহরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, দেশের নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব পালন করছেন। তবু তাঁকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়ায় নানা গুজব আরও জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক লড়াই নয়, তথ্যযুদ্ধও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ছড়ানো হতে পারে। ফলে একদিকে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য উপস্থিতি যেমন তাঁর মৃত্যু সংক্রান্ত গুজবকে থামানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
