ওঙ্কার ডেস্ক: ফের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক ভাষণে দাবি করেছেন, গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনার সময় তিনি হস্তক্ষেপ না করলে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারত। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফ নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন যে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছিল এবং সময়মতো কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।
স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান তখন সরাসরি সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই দুই দেশ শেষ পর্যন্ত সংঘাত থেকে সরে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর প্রশাসন বিশ্বজুড়ে একাধিক বড় সংঘাত থামাতে ভূমিকা নিয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার এই উত্তেজনাও তারই একটি উদাহরণ।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যে তিন কোটি মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুর যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান বা স্বাধীন যাচাই সামনে আসেনি। অন্যদিকে ভারত সরকার আগেই জানিয়েছিল, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে কোনও তৃতীয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা ছিল না। ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশের সামরিক পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গত বছরে কাশ্মীরের পেহেলগামে সাধারণ পর্যটকদের উপর হামলা চালায় পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সেই হামলায় ২৬ জন ভারতীয় মারা যায়। সেই হামলার প্রতিবাদে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায়। কাশ্মীর সীমান্ত এবং পাকিস্তানে স্থিত নয়টি জঙ্গীঘাঁটি ধূলিসাৎ করে দেয় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ভারতের সই হামলার পর পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালায়। চার দিন ব্যাপী যুদ্ধের পর অবশেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর যুদ্ধ বিরতির সিধান্ত নেয় দিল্লি ইসলামাবাদ। এই যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কারণ ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। ফলে যে কোনও বড় ধরনের সংঘাত আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারত।
