ওঙ্কার ডেস্ক : বুধবার তাঁর ইতালি সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইতালি হয়েই মোদীর পাঁচ-দেশীয় কূটনৈতিক সফরের শেষ হল। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো এবং ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর শেষ করে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেবার পর বিদেশ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই সফর ভারত-ইতালি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে ‘নতুন গতি’ এনেছে। যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করেছে। ভারত-ইতালি সম্পর্ক উত্তরোত্তর শক্তিশালী হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দিল্লি।
ইতালির সঙ্গে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এর ফলে দু’ দেশের মধ্যে নতুন গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতালি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল X-এ একটি পোস্ট করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ” প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইতালি সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন নয়াদিল্লি এবং রোম বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ক্ষেত্রে ক্রমাগত সহযোগিতা প্রসারিত করছে।”
প্রসঙ্গত বলা যায়, গত কয়েক বছরে দু’ দেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। এর সূত্রপাত ঘটে ২০২৩ সালে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ভারত সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার মাধ্যমে। তারপর থেকে, উভয় দেশ উচ্চ-স্তরের রাজনৈতিক আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রক্রিয়াগুলোকে আরও জোরদার করেছে। ইতালি সফরে প্রধানমন্ত্রী যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্টতই ভারতের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ভারত ও ইতালি এ বিষয়ে একমত যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসবাদে আর্থিক সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের যৌথ উদ্যোগ সমগ্র বিশ্বের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভারত ও ইতালি এই সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে দায়িত্বশীল গণতন্ত্রগুলো শুধু সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে না, বরং এর আর্থিক নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও গ্রহণ করে। ইউক্রেন, পশ্চিম এশিয়া এবং অন্যান্য উত্তেজনার বিষয়ে আমরা নিরন্তর যোগাযোগ রেখেছি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট যে, সব সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী মেলোনি আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন এবং দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রমে একাধিকবার সাক্ষাৎ করে বিশ্ব মঞ্চে কার্যত রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে,এই সফরের ইতালি পর্বের আলোচনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নত উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর উদ্যোগে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারত ও ইতালি সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন পরিকাঠামো এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
কূটনৈতিক সূত্র থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘটনাবলি, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। ইউরোপে ইতালি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ইতালীয় সংস্থা ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমোবাইল থেকে শুরু করে জ্বালানি ও ফ্যাশন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ভারতে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক আবহে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই পাঁচ-দেশীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।