ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে তেহরানে একদিকে যেমন লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে, তেমনই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল ইরান। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের ফাঁকেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে বসেন লেবাননের হিজবুল্লা এবং প্যালেস্টাইনের হামাসের প্রতিনিধিরা। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত সমন্বয় নিয়েই মূলত এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি, খামেনেইর শেষকৃত্য শুধুমাত্র একজন রাষ্ট্রনায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান ছিল না, বরং ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর ঐক্য এবং সংহতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই অনুষ্ঠানে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
হিজবুল্লার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রবীণ নেতা মোহাম্মদ ফনেইশ। অন্যদিকে হামাসের প্রতিনিধিরাও ইরানের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শেষকৃত্যে অংশ নেন। বৈঠকে আব্বাস আরাঘচি দুই সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গাজা যুদ্ধের প্রভাব, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে ইরানি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বহু বছর ধরেই লেবাননের হিজবুল্লা, গাজার হামাস এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইরান। ফলে খামেনেইর মৃত্যুর পর এই সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের একসঙ্গে তেহরানে উপস্থিতি এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শক্তির সমীকরণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
খামেনেইর শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ইজরায়েল ও আমেরিকাবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।