ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলা বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তার স্বার্থে কলকাতা পুরসভা এলাকার সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। সেই ঘটনার পর নির্মীয়মাণ ভবনগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবার নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
শুক্রবার কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেন। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুন জারি হওয়া নির্দেশিকার আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২৫ জুন মুখ্যসচিবের নির্দেশে গঠিত উচ্চস্তরের কমিটির কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) অথবা ‘গো অ্যাহেড সার্টিফিকেট’ পাওয়া নির্মাণ প্রকল্পগুলিই ফের কাজ শুরু করার অনুমতি পাবে। তবে শুধু হাই পাওয়ার কমিটির ছাড়পত্র পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে না। পুরসভা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণস্থল প্রথমে পুরসভার অডিট বিভাগের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের সময় নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত মান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সন্তোষজনক বলে মনে হলে নির্মাণকারী সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সেই আবেদন গ্রহণের পরই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে এবং নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা যাবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আপাতত এই ছাড় শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভার ১ থেকে ১৬ নম্বর বরোর অন্তর্গত নির্মাণ প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের কমিশনারের কার্যালয় থেকে ই-মেল অথবা হাতে নোটিস দিয়ে অনুমতির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের ২৬ জুনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপকে পূর্বের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কোন কোন কাজ এই ছাড়ের অন্তর্ভুক্ত হবে, তার বিস্তারিত পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে।
তারাতলার দুর্ঘটনার পর শহরের নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুরসভা যৌথভাবে সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা এবং প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কোনও নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা যাবে না। পুরসভার আশা, এই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ স্বাভাবিক হবে, এবং ভবিষ্যতে নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও কঠোর ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।