ওঙ্কার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে এক রাতের মধ্যে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালাল ইরান। যার ফলে জাহাজগুলিতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের হামলা অথবা নৌমাইনে ধাক্কা লাগার কারণে জাহাজগুলির এই অবস্থা হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইজরায়েলে নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। সেই ভোটে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। যুদ্ধের জেরে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযান ফের শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এর উদ্ধৃতি দিয়ে জাহাজগুলিতে হামলার খবর প্রচার করেছে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আমেরিকা সহায়তা চালিয়ে গেলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হবে।
তবে এই হামলার ফলে হতাহতের কোনও খবর উল্লেখ করা হয়নি। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও ওই হামলাগুলির কথা জানায়নি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনও নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করে আসছে ইরান।
আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনায় এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার জানিয়েছেন, তেহরান সতর্ক অবস্থানে থাকলেও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করছে না। তবে দেশের প্রতিরক্ষার জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা নেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও বিস্তৃত হতে পারে। সমুদ্রের তলদেশে থাকা যোগাযোগের কেবল এবং ডেটা সেন্টারের মতো পরিকাঠামোও সম্ভাব্য নিশানার তালিকায় আসতে পারে।