ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়ছে যুদ্ধের আবহ। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি তেল টার্মিনালে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার হঠাৎই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ উপকূলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল আকারের আগুনে জ্বলছে তেল সংরক্ষণাগারের একাংশ এবং আকাশ জুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। বহু চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, একটি ড্রোন আক্রমণের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সন্দেহজনক একটি ড্রোনকে আকাশেই প্রতিহত করা হয়। সেটি ভূপাতিত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষ তেল টার্মিনালের একটি অংশে পড়ে আগুন লাগে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফুজাইরাহ বন্দরটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণের ক্ষেত্রে এই বন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের বহু তেলবাহী জাহাজ এখান থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে। ফলে এই বন্দরে আগুন লাগার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার জেরে তেল টার্মিনালের কিছু অংশে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে পুরো বন্দরে। কোনও হতাহতের খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। খার্গ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। ইরানের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। ফলে ওই এলাকায় হামলার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে।
ইরান আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থ জড়িত বিভিন্ন স্থাপনাও নিশানায় আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আমিরশাহির তেল টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনা ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কারও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।
গোটা ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
