ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রভাব এবার পৌঁছে গেল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইতেও। শুক্রবার গভীর রাতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে শহর। হামলার জেরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রতীকী বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরব।
দুবাই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের একটি কনকোর্সের অংশে ভেঙে পড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। এতে অন্তত চারজন আহত হন। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি পরিষেবা কর্মীরা। সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সীমিত পরিষেবা চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক উড়ান সূচিতে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে, বহু ফ্লাইট বাতিল বা ঘুরিয়ে দেওয়া হয় অন্য বিমানবন্দরে।
একই সময়ে, সমুদ্রতীরবর্তী সাততারা হোটেল বুর্জ আল আরবের বাইরের অংশে আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আকাশে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের অংশ হোটেলের গায়ে পড়ায় এই আগুন লাগে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দুবাই সিভিল ডিফেন্স। হোটেলের ভেতরে থাকা অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুধু বিমানবন্দর বা হোটেলই নয়, দুবাইয়ের বন্দর এলাকাতেও বিস্ফোরণের অভিঘাত দেখা যায়। বিশেষ করে জেবেল আলী বন্দর-এর একটি অংশে আগুন লাগার খবর মিলেছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।
এই হামলার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে ইরানের সঙ্গে ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষের জেরে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নাগরিকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
