ওঙ্কার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কূটনৈতিক প্রয়াস হিসেবে গঠিত “শান্তির পরিষদে” পাকিস্তানকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই পরিষদকে গাজা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও ইজরাইল এর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। ইজরাইলের বক্তব্য, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ককেই প্রাধান্য দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে উভয় দেশের মধ্যে কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই পরিস্থিতিতে এমন একটি শান্তি ফোরামে পাকিস্তানের ভূমিকা গ্রহণ করা তাদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত।
পাকিস্তান বিদেশমন্ত্রকের অফিসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তির এই পরিষদে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেছে এবং এটি গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্য পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। পাকিস্তান সরকারের একাংশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ভূমিকা তাদের আন্তর্জাতিক নীতিতে একটি নতুন দিশা দেখাবে। যেখানে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম দেশ হিসেবে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা গ্লোবাল ফোরামে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের সরকার এ বিষয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে পাকিস্তানের সামরিক সংস্থাগুলোর সাথে জড়িত ইতিহাস ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগের কারণে তারা পাকিস্তানের ভূমিকা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ইসরাইলি নীতি নির্মাতাদের মতে, এমন একটি ফোরামে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা ভবিষ্যতের কোন শান্তি প্রয়াসকে জটিল করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সিদ্ধান্ত সমালোচনা ও সমর্থনের দু’দিকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক বলেছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হতে পারে যা গাজা ক্ষেত্রে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তার জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে, আবার অনেকে এতে জাতিসংঘসহ প্রচলিত বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক কাঠামোর বাইরে একটি পৃথক ফোরাম তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই পরিষদে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো কিছু মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামিক দেশ অংশ নিচ্ছে, এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গাজা সংকটের একটি সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধান ও পুনর্গঠনে অবদান রাখতে পারে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের একটি উদ্যেগ কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ের প্রবাহেই স্পষ্ট হবে।
