ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধের ১৯ দিনেও যুদ্ধ বিরতির কোন ইঙ্গিত দিচ্ছে না কোনো পক্ষই। এর মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তথা আয়াতোল্লা আলি খামেনিইর পুত্র মোজতবা আলি খামেনিইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন। তিনি সাফ জানিয়েছেন মোজতবা দুনিয়ার যেই প্রান্তে থাকুক না কেন তাঁকে খুজে বের করে মারবে ইসরায়েল সেনা। উল্লেখ্য সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী গুরতর জখম অবস্থায় বর্তমানে মস্কোকে চিকিৎসাধীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনিই।
চলতি বছেরের ২৮-এ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যোথ হামলা চালায় ইসরায়েল এবং আমেরিকা। সেই হামলায় ইতিমধ্যেই ইরানের অত্যান্ত গুরত্বপুর্ন এবং শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যু হয়। ইসরায়েল বাহিনীর হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিইর। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের তরফে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-কে ঘিরে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে টার্গেট করে হত্যা করেছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোও চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মহল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কেবলমাত্র সামরিক ঘাঁটি বা অস্ত্রভাণ্ডার নয়, বরং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকেও সরাসরি টার্গেট করছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খামেনেইকে খুঁজে বের করে নির্মূল করার লক্ষ্যেই গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি খুব কমই দেওয়া হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানের নেতৃত্ব নিরাপদ নয় এবং প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অবস্থানই বর্তমান হুমকির মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। খামেনেই স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এই ধরনের আক্রমণ ও হুমকির জবাব দেওয়া হবে এবং দায়ীদের মূল্য চোকাতে হবে। অতীতে ইরানের তরফ থেকে কড়া ভাষায় হুমকি দিয়েছিল তৎকালীন দেশের সর্বোচ্চনেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিইর উপর কোন রকম হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের উপর হামলা হিসাবে বিবেচিত হবে। এবং এর উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনিই। আর তাঁর পর পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে এলোপাথারি হামলা চালায় তেহরান। পুরো বিশ্বের তেল সরবারহ এর গুরত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রনালীও বন্ধ করে দেয় ইরান। ফের যদি ইরানের আর এক সর্বোচ্চ নেতার উপর প্রাণঘাতী হামলা হয় তার প্রভাব যে ভয়াবহ হবে তা নিশ্চিত।
ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। লেবানন, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
