ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। এবার সরাসরি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হেজবোল্লার শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করার হুঁশিয়ারি দিল ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, হেজবোল্লার প্রধান নাইম কাসেম এখন “নির্মূল করার লক্ষ্যে চিহ্নিত”। এই ঘোষণার পরই পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক রকেট ও ড্রোন হামলার পেছনে হেজবোল্লার প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার ঘটনার পরেই এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ইজরায়েলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার “চূড়ান্ত মূল্য” দিতে হবে। কাসেমকে সরাসরি লক্ষ্য করে দেওয়া এই হুঁশিয়ারি কার্যত সংঘাতকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিল।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন হেজবোল্লার নেতৃত্বে ছিলেন হাসান নাসরাল্লাহ। তাঁর মৃত্যুর পর সংগঠনের দায়িত্ব নেন নাইম কাসেম। নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর থেকেই সংগঠনটি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ তেল আবিবের। বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হেজবোল্লার সক্রিয়তা বেড়েছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাংশ ও বেইরুটের উপকণ্ঠে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাল্টা হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনও সংগঠনের বর্তমান প্রধানকে প্রকাশ্যে ‘নির্মূলের লক্ষ্য’ ঘোষণা করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হতে পারে। লেবানন সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সূত্রের খবর।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একদিকে ইজরায়েলের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে হেজবোল্লার পাল্টা হুমকি— দুইয়ের সংঘাতে নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।
