ওঙ্কার ডেস্ক: মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর কনটেন্ট, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদান, ভুয়ো তথ্য এবং কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সংস্থাটিকে। এবার সেই বিতর্কের মাঝেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। তিনি স্বীকার করেন, সংস্থার প্ল্যাটফর্মে কিছু ক্ষেত্রে অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যা রুখতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারত সরকারের সঙ্গে মেটার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা, বেআইনি ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ, ডিপফেক ভিডিও, ভুয়ো তথ্যের বিস্তার এবং কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকার। বিশেষ করে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। এরপরই মার্ক জাকারবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, এই ধরনের ঘটনার জন্য তিনি দুঃখিত। ব্যবহারকারীদের নিরাপদ পরিবেশ দেওয়াই মেটার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে সংস্থা ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করছে এবং কনটেন্ট পর্যবেক্ষণে কর্মী ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
মেটা জানিয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহজনক কনটেন্ট শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক এবং ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নীতি অনুসরণ করা হবে। প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত পর্যালোচনা ও রিপোর্ট প্রকাশের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক ভিডিও ডিলট ঘিরে বিতর্কের তৈরি হয়। ভিডিও ডিলিট ঘিরে মেটাকে জরুরি তলব করা হত। কেন্দ্র তিন দিনের সময় বেঁধে দেয় মেটাকে। জানানো হয় ক্ষমা না চাইলে তুলে নেওয়া হবে রক্ষাকবচ।