ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে আদিগঙ্গা থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা আদিগঙ্গার জলে একটি দেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারুইপুর থানার পুলিশ। এরপর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার পর জানা যায় তিনি বীরভূম জেলার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কীভাবে তিনি বারুইপুরে এলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও দেহের অবস্থা খতিয়ে দেখে মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না এবং সেগুলির প্রকৃতি কী, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তি কোথায় ছিলেন, কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল এবং তাঁকে অন্য কোথাও খুন করে দেহ আদিগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই দিকগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃতের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, সাম্প্রতিক গতিবিধি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বীরভূম ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান শুরু হয়েছে, যাতে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্তের দিশা নির্ধারণ করা হবে। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে বীরভূমের এক ব্যক্তির দেহ বারুইপুরের আদিগঙ্গায় এসে পৌঁছল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।