ওঙ্কার ডেস্ক: ছাত্র ও যুবদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তার পরেই সে দেশের শাসনভার হাতে নিল নেপালের সেনা। ক্ষমতা নিজেদের হাতে নেওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে সেনার তরফে। কোনও রকমের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জারি করা হয়েছে কার্ফু।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, নেপালের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বুধবার সকাল থেকে নেপালে কোনও বড় ধরনের হিংসার ঘটনা না ঘটলেও বেশ কয়েক জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে সংঘর্ষ চলছে। নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল মঙ্গলবার রাতেই দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের কাছে আমাদের আবেদন, অবিলম্বে বিক্ষোভ বন্ধ করে আলোচনায় বসুন। বর্তমানে শান্তিপূর্ণ সমাধান, ঐতিহাসিক ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা দরকার।’ বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে এদিন শোকপ্রকাশ করেন তিনি। সেনাপ্রধান বলেন, ‘নেপালের ইতিহাস জুড়ে সেনা সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
উল্লেখ্য, সমাজ মাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নেপালে বিক্ষোভের সূচনা হয় সোমবার। সরকারি বিরোধী সেই বিক্ষোভ শীঘ্রই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১৯ জন বিক্ষোভকারীর। সোমবার পেরিয়ে মঙ্গলবার ও চলে নেপালের কাঠমান্ডু-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ। যদিও সমাজ মাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা নেপাল সরকারের তরফে প্রত্যাহার করা হলেও, প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ হয়নি। বরং নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবি জানান বিদ্রোহীরা। সেই দাবি মেনে মঙ্গলবার ওলি পদত্যাগ করেন। তার পরেই দেশের শাসনভার গেল সেনার হাতে।
