ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের প্রশংসা করেছেন। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প তাঁদের “দারুণ” এবং “সম্মানযোগ্য নেতা” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার উপর তাঁর আস্থা আছে।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের তালিবান শাসিত অঞ্চল থেকে লাগাতার সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ ও হামলার জেরে তারা বাধ্য হয়েছে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে। অপরদিকে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে পাকিস্তান নিরীহ এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় গোলাগুলি, ড্রোন হামলা এবং পাল্টা অভিযানের খবর মিলেছে।
পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে বহু তালিবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। যদিও আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত ‘খোলা যুদ্ধে’র পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র কি সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে? জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে সামরিক হস্তক্ষেপের আশ্বাস না দিলেও বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে। পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্তে অস্থিরতা বেড়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, আফগান মাটিকে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করে, পাকিস্তান সীমান্তরেখা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আগ্রাসী নীতি নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার একাধিক দেশ উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুই দেশের সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার নেয়, তবে তা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
