ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহন করেছেন ডেমোক্র্যাট-৬৬ এর রব জেটান। নেদারল্যান্ডসের সর্ব কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বিশ্বের প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশেষ নাজির গড়েছেন। সংসদে মোট ৬৬টি আসন দখল করে সরকার গঠন করেছেন রব জেটান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জেটানকে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন।
৩৮ বছর বয়সি এই নেতার অভিষেককে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গঠিত জোট সরকারের নেতৃত্বে এসেছেন জেটেন। নির্বাচনের ফলাফলে কোনও একক দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন করতে হয়।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জলবায়ু নীতি, অভিবাসন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জেটেন বলেন, বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে বলে জানান নতুন প্রধানমন্ত্রী।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিনন্দন বার্তায় তিনি নেদারল্যান্ডসের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সফল কার্যকালের কামনা করেন এবং ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জল ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বে সম্পর্কের আরও প্রসার ঘটবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
নেদারল্যান্ডসের রাজনৈতিক ইতিহাসে জেটেনের উত্থানকে অনেকে সামাজিক অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ইউরোপে ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে সমকামী নেতারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হল নেদারল্যান্ডসের নামও। তরুণ নেতৃত্ব, উদারনৈতিক ভাবনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেটেন যা আগামী দিনে ডাচ রাজনীতিতে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মত।
