
ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে চড়া হারে শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। যার পর অনেক দেশ বিষয়টিকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ বলে সরব হয়েছিলেন। এবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব হল রাষ্ট্রপুঞ্জও।
রাষ্ট্রপুঞ্জের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল রেবেকা গ্রিনস্প্যান জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি বিশ্ব উন্নয়নের পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়বে দুর্বল এবং দরিদ্রেরা।
এক বিবৃতিতে রেবেকা বলেন, ‘বাণিজ্য উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। একে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতার উৎস করে তোলা উচিত নয়।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘ভবিষ্যতের কথা এবং উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন বাণিজ্যনীতি নির্ধারণ করতে হবে। দরিদ্র ও দুর্বলদের রক্ষা করতে হবে।’ পারস্পরিক সহযোগিতার পথে না হেঁটে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার কোনও মানে হয় না বলে জানান রাষ্ট্রপুঞ্জের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। পাকিস্তানের পণ্যের উপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। চিনের পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ। যদিও চিনের তরফেও মার্কিন পণ্যে ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
আর কোন কোন দেশে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন?
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের উপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, ইজরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, ব্রিটেনের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।