ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইরান, আমেরিকা এবং তাদের মিত্র দেশগুলির মধ্যে চলতে থাকা সামরিক সংঘাত এখন গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একের পর এক হামলা, পাল্টা আঘাত এবং কূটনৈতিক হুঁশিয়ারির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বড় মোড় আসে যখন মার্কিন বাহিনী ইরানের পারস্য উপসাগরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালায়। এই দ্বীপটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবংকৌশলগত সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। হামলায় দ্বীপে থাকা একাধিক সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে ওই এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া ও আগুন দেখা যায়।
এই হামলার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ইরানের অভিযোগ, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশের ঘাঁটি বা আকাশপথ ব্যবহার করা হয়েছে। সেই কারণেই আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। এর পর থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে আমিরশাহির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হলেও কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তেল শোধনাগার, বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহলও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং তার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা আক্রমণ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
