ওঙ্কার ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে অবশেষে নরম অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের একাধিক দেশের ওপর আমদানি শুল্ক চাপানোর আগের হুঁশিয়ারি থেকে সরে এসে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত ডেনমার্ক-সহ ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনও নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে না। তাঁর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য মহলে স্বস্তির বার্তা এনে দিয়েছে।
কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক ও তার মিত্র দেশগুলি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন না করলে তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হবে। প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হলেও ভবিষ্যতে তা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এই ঘোষণার পরই ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। ডেনমার্ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, গ্রিনল্যান্ড তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং তা বিক্রির কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
এই পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে ন্যাটো নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। আলোচনার পর তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সেই কারণেই আপাতত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, সামরিক চাপ বা সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা হবে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। উত্তর মেরু সংলগ্ন এই দ্বীপ সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ওয়াশিংটন। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়ে দিয়েছিল। শুল্ক হুমকি কার্যকর হলে ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য ও ন্যাটো জোটের ঐক্য বড় ধাক্কা খেতে পারত বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
নতুন ঘোষণার ফলে আপাতত সেই আশঙ্কা কাটলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলা যাচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও ইউরোপের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, সংঘাতে ভবিষ্যতেও কূটনৈতিক আলোচনার পথই যে মূল ভরসা, তা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই দিকেই, শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা কতটা স্থায়ী হয় এবং দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়।
