ওঙ্কার ডেস্ক: গত মাসে বালোচিস্তানে একাধিক জায়গায় সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানের বিচ্ছিনতাবাদী গোষ্টী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি। সেই হামলায় শতাধিক পাকিস্তানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিল বলে সরকারি সুত্রে জানানো হয়েছিল। সেই হামলার প্রতিবাদে পালটা হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা। পাল্টা পাকিস্তানি সেনার হামলায় ২১৬ জন বিএলএ সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা। এবার পাকিস্তানের সেই সামরিক হামলার সমর্থন করেছে মার্কিন মুলক। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের দক্ষিণ মধ্য এশিয়া বিভাগের তরফ থেকে এই প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন সমর্থন করে বিবৃতি জারি করেছে।
বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক সমন্বিত হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের পাশে তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের হামলা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই নয়, সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে তোলে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে হামলাকে ‘নৃশংস ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে দাবি করেছে বিদেশমন্ত্রকের দক্ষিণ মধ্য এশিয়া দফতর। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী যে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা শিবির, রেলপথ ও জনবহুল এলাকাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এতে বহু সেনা ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন। ঘটনার পরপরই বড় মাপের তল্লাশি ও অভিযান শুরু করে পাকিস্তান সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক বা নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বালুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ ও সহিংসতার কারণে অশান্ত। উন্নয়ন প্রকল্প ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে অঞ্চলটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে সাম্প্রতিক হামলাগুলি দেশের নিরাপত্তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
