নিজস্ব প্রতিনিধি, বালুরঘাট : বাংলাদেশ সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুরের আন্তর্জাতিক পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। ইউনূস সরকারের ইঙ্গিতে কিছুদিন আগেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) ইস্যু হয়। সেই ভরসাতেই নাসিক, উত্তরপ্রদেশ–সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ১৩০০-১৪০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিলেন জেলার ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি শুরু হতেই আচমকা বাংলাদেশ সরকার আইপি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে কার্যত ধসে পড়েছে বাজার। রপ্তানির জন্য মজুত থাকা প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ গুদামে পচছে শুধু মাত্র একজন ব্যবসায়ীর কাছে। এই পরিস্থিতিতে খুব কম দামে স্থানীয় বাজারে বেচতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ী রামনাথ সাহা সহ অন্যান্যরা।

রপ্তানিকৃত দরের হিসাবে ক্ষতির অঙ্ক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা বলেই দাবি করেছেন রপ্তানিকারকরা। ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার আগে মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে বছরে ১৭-১৮ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করত বাংলাদেশ। যার বাজারমূল্য দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এখন সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র বারোশো টনে। ফলে ধাক্কাটা কার্যত সোজা এসে পড়েছে সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে।

রপ্তানিকারক রামনাথ সাহার ক্ষোভ, “বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেই জানতে পেরেছিলাম আইপি দেওয়া হবে। নিজেদের তরফ থেকেও আশ্বাস ছিল। সেই ভরসাতেই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করি। কিন্তু রপ্তানি শুরু হতেই মাঝপথে আইপি বন্ধ করে আমাদের সঙ্গে কার্যত বিশ্বাসঘাতকতা করল বাংলাদেশ সরকার।” তিনি স্পষ্ট জানান, “এখন থেকে মুখের কথায় বিশ্বাস নয়। হাতে আইপি না আসা পর্যন্ত আমরা আর পেঁয়াজ মজুত করব না।” একই রকম ক্ষোভ দক্ষিণ দিনাজপুরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মহলে। অনিশ্চয়তা আর ক্ষতির আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের।
