ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দিলেন আন্তর্জাতিক মহলকে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করার।
সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, ইরানের উপর যে আক্রমণ চালানো হয়েছে, তার উপযুক্ত জবাব না দিয়ে কোনওভাবেই পিছু হটার প্রশ্ন নেই। যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছেছিল, তা তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রস্তাব ইরানের স্বার্থের পরিপন্থী এবং তা গ্রহণ করলে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।
খামেনেই স্পষ্ট করে দেন, ইরানের লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা নয়, বরং প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা এবং তাদেরকে দায় স্বীকার করতে বাধ্য করা। তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে এক কঠোর ও আপসহীন মনোভাব, যা বর্তমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে এই অঞ্চলে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনেইয়ের এই অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথকে অনেকটাই কঠিন করে তুলেছে। যেখানে একদিকে আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত কমানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে, সেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই কড়া অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
