অরূপ ঘোষে, ঝাড়গ্রাম : সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি। নারী পাচার ও বাল্য বিবাহের মতো অভিশাপ দূর করতে ধারাবাহিক সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগই যে পথ দেখাতে পারে, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গোপীবল্লভপুর। এই লক্ষ্যে ঝাড়গ্রাম জেলার ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে লাগাতার কাজ করে চলেছে গোপীবল্লভপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সংগঠনের উদ্যোগে ১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাতে শ্রীপাট গোপীবল্লভপুরের রসিকানন্দ ময়দানে মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হল গণবিবাহ অনুষ্ঠান। এ বছর সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় মোট ১৪ জোড়া পাত্র–পাত্রীর বিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৮ বছরে এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মোট ৩,৫২৬ জন কন্যার বিবাহ দিয়ে এক অনন্য নজির গড়েছে ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশন।
১৮ তম বর্ষের এই গণবিবাহ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপাট গোপীবল্লভপুরের মহন্ত শ্রী শ্রী কৃষ্ণকেশবানন্দ দেবগোস্বামী। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চূড়ামনি মাহাতো, গোপীবল্লভপুর থানার আইসি কার্তিক চন্দ্র রায়, গোপীবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সত্যরঞ্জন বারিক, সংগঠনের সম্পাদক সনাতন দাস, কোষাধ্যক্ষ অনুপ কর, সুব্রত সিংহ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। রাতভর মঞ্চে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় রীতি মেনে পাত্র–পাত্রীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে নবদম্পতিদের দেওয়া হয় পালঙ্ক, আলমারি, সোনার নাকছাবি, দুল, সাইকেল, ঘড়ি, বিছানাপত্র, বাসনপত্র-সহ নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
জানা গিয়েছে, সুবর্ণরেখা নদীতীরবর্তী গোপীবল্লভপুর ও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড–উড়িষ্যা সীমান্ত এলাকায় নারী পাচার ও বাল্য বিবাহ রুখতেই এই গণবিবাহের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতার বার্তা দিয়ে চলেছে সংগঠনটি। এই মহতী উদ্যোগে শ্রী পাট গোপীবল্লভপুর এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা নবদম্পতিদের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান।
