ওঙ্কার ডেস্ক: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের বিপাকে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মুর্শিদাবাদের আন্দিতে জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতেও হানা দেন ইডি আধিকারিকেরা। সেখানেই ঘটে নতুন নাটকীয়তা। অভিযোগ, ইডিকে দেখে পালাতে গিয়ে বাড়ির পিছনের ঝোপে নিজের একটি মোবাইল ফোন ছুড়ে দেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় সংস্থার জওয়ানরা সেই ফোন উদ্ধার করেন।
সূত্রের খবর, অভিযানের সময় বিধায়ক বাড়িতেই ছিলেন। ইডি পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে সংস্থার তিন জওয়ান তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং আবার বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসেন। এরপর অন্তত পাঁচজন ইডি আধিকারিক তাঁকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। অভিযোগ, বিধায়ক তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তাঁর অন্তত দু’টি মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড বলতে অস্বীকার করেছেন তিনি। গত ৯০ দিনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কিন্তু তাঁর বয়ানে বারবার অসঙ্গতি ধরা পড়ছে বলেই অভিযোগ ইডির।
প্রথমে ইডি আধিকারিকরা টেরই পাননি যে মোবাইলটি বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে বাড়ির পিছনের নর্দমা ও ঝোপের মধ্যে থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়। ফোনে কী কী তথ্য রয়েছে এবং তা কতটা নষ্ট হয়েছে, তা এখন খতিয়ে দেখছে ইডি।
শুধু আন্দিই নয়, সমান্তরালভাবে অভিযান চলছে আরও কয়েক জায়গায়। বীরভূমের সাঁইথিয়ায় জীবনকৃষ্ণের পিসি ও স্থানীয় কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতে, রঘুনাথগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে এবং মহিষগ্রামের ব্যাঙ্ককর্মী রাজেশ ঘোষের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তখনও অভিযোগ উঠেছিল, প্রমাণ নষ্টের জন্য তিনি নিজের দু’টি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেগুলি উদ্ধার করা হয়। প্রায় ১৩ মাস জেলে কাটানোর পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। তারপর ফের বিধানসভায় গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ।
কেন্দ্রীয় সংস্থার পর পর হানায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বিধায়কের নাম। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বারবার মোবাইল ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও গভীর করছে।
