বিপ্লব দাশ : রাজনীতির অভিমুখ ক্ষমতাকেন্দ্রিক হলেও তা কখনোই সামাজিক দায়িত্বকে উপেক্ষা করে নয়। কিন্তু ভারতীয় রাজনীতিতে সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব আক্ষরিক অর্থে তলানিতে ঠেকেছে। তা আবার প্রমাণিত হল কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে ফল ঘোষণার পর। জয়ী দলের বিজয়োল্লাসে প্রাণ গেল একটি ফুটফুটে বাচ্চা মেয়ের। কেন এমন হবে ? সংসদীয় গণতন্ত্রের বহিরাঙ্গটিতে আজ যে চিত্র হামেশাই প্রকট হয়ে ওঠে তা হল নিতান্তই ক্ষমতা প্রদর্শনের দাম্ভিকতা। শুরু থেকে সুউচ্চ, আকৃতি বিশেষে তার প্রকাশ আমরা দেখতে পাই। এটা যে গণতন্ত্রের চরম বিরোধী সেই বোধ এখন অধিকাংশের মধ্যে ছিটেফোঁটাও মেলে না। যে যেমন অবস্থানেই থাকুক না কেন সে সেই অবস্থানে সর্বেসর্বা এটা তাকে প্রকাশ করতেই হয়। এটাই যেন অস্তিত্বের একমাত্র সারবত্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে বিষয়টি যে সম্পূর্ণ মানসিক তা আর বলার অপেক্ষায় থাকে না। কোনো সিস্টেমে যখন ভেঙে পড়ে তখন তার ভগ্নরূপগুলি বিচ্ছিন্ন ভাবে সম্পূর্ণকেই জাহির করত চায়। একটা সুদৃশ্য কাঁচের আসবাব যখন ভেঙে যায় তখন তার প্রতিটি ভগ্নাংশ, সে যতই ছোটো হোক কিংবা বড়, তার মতো সে কাটবেই। জোড়ার প্রকৃতি তারা হারিয়ে ফেলে। তাদের ধর্মে আর একত্রিকরণের সৌন্দর্য কাজ করে না।
ভারতীয় রাজনীতিতে এখন অনেকটাই এমনই দুর্দশা দেখতে পাই। একটি জনবসতি এলাকায় উল্লাস কেমন আকার নেওয়া উচিত, সেই বোধ কাজ করল না এই ভগ্ন মানসিকতার জন্য। ফলে আমরা দেখলাম এক চরম মর্মান্তিক ঘটনা। যার জন্য কোনো বেদনাই যথেষ্ট নয়। এ দেশের ক’জন রাজনীতিকই বা জানেন গনতন্ত্রের মূল আদর্শ কি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে তার উল্টোটাই দেখা যায়। বিজ্ঞ রাজনীতিকরা এই উল্টো প্রকৃতিকেই গনতন্ত্র মনে করেন। ভারতীয় রাজনীতির এটাই প্রাথমিক বিচ্যুতি। সংসদীয় রাজনীতির সংখ্যাতত্ত্বের হাত ধরে ক্ষমতায়নের যে সংস্কৃতি গোটা দেশকে যে ভাবে গ্রাস করেছে এর থেকে পরিত্রাণ কী ভাবে আসবে তা বলা মুশকিল। তার জন্য চাই আমূল পরিবর্তন। এবং প্রথমে তা মানসিক, পরে বাহ্যিক।
