নিজস্ব সংবাদদাতা: দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কেটি জাকারিয়াকে। তাঁর আইনি যোগ্যতা এবং প্রথম ব্রিফিং নিয়ে বিতর্কের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিজেই জাকারিয়াকে এই পদটি নিয়ে ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য, “আমার মতে ওর সঙ্গে খুব অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, ওকে মিডিয়া নৃশংসভাবে আক্রমণ করেছে। আমি ওকে বলেছি, এই সবের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কোনও দরকার নেই।”
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই জাকারিয়ার জীবনপঞ্জি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছেন জাকারিয়া। কিন্তু তিনি আদৌ কোনও রাজ্যে বার পরীক্ষায় পাশ করেছেন কি না, তার কোনও প্রমাণ হোয়াইট হাউস বা জাকারিয়া কেউই দিতে পারেননি। এমনকী চিনে একটি বড় আইন সংস্থায় কাজ করার সময়ও তাঁর বৈধ লাইসেন্স ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিতর্ক আরও বাড়ে তাঁর প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ের পর। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি ‘স্বামী’ বলে জিভ কেটেছিলেন। তড়িঘড়ি সেই ভুল শুধরে নিলেও তাঁর সেই বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে শুরু হয় চর্চা। এরপরই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওইদিনই এক সাংবাদিক জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কোথায় বার পরীক্ষায় পাশ করেছেন। কারণ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম পপুলার ইনফরমেশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনও রাজ্যেই তাঁর লাইসেন্সের নথি নেই। যদিও সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতেই পারেননি তিনি। আর তারপর থেকেই জাকারিয়াকে কেন্দ্র করে একের পর এক প্রশ্ন দানা বাঁধতে থাকে।
এই চর্চার মধ্যেই হোয়াইট হাউস জাকারিয়ার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয় তিনি ২০০৭ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০১১ সালে পেপারডাইন কারুসো স্কুল অফ ল’ থেকে আইন ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে পদ হারিয়েও ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন জাকারিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে “দয়ালু, চমৎকার, উদার, চিন্তাশীল, উৎসাহী এবং পরিশ্রমী” বলে উল্লেখ করে তাঁর অধীনে কাজ করাকে সম্মানের বলে জানিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ অধিকর্তা স্টিভেন চেউংও দাবি করেন, জাকারিয়া “অনন্যভাবে যোগ্য এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমতী”।