নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর : প্রাচীনকাল থেকে প্রথা মেনে চলে আসছে কনকাঞ্জলির পর পড়্যা পরিবারের নববধূর কোলে কার্তিক দেওয়ার বিশেষ রীতি। নববধূও সাদরে বরণ করে নেয় তাঁর সন্তান-সন্ততি কামনায়। এভাবেই এক এক করে ৩০৮ বছর ধরে প্রাচীন প্রথাকে মান্যতা দিয়ে আসছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত খেতুয়া গ্রামের পড়্যা পরিবারের দুর্গাপুজো। মহালয়ার দিন পিতৃ-পুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে মা ঊমার আরাধনায় মেতে উঠেন পড়্যা পরিবারের সদস্যরা।
বনেদি বাড়ির আদি পূর্বা-পুরুষদের নিয়ম অনুযায়ী, সাত্ত্বিক মতেই মায়ের পুজো আরাধনা হয়। বিষ্ণু মন্দির থেকে আরাধ্য কূল দেবতাকে মায়ের মন্দিরে নিয়ে এসে পুজোর পর্ব শুরু করেন পুরোহিত। প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়ে যায় মা উমার আরাধনা। ষষ্ঠীতে বেলতলায় হয় মা এর বেলবরণ। সপ্তমীতে পড়্যা পরিবারের বধুরা নারকেল ও চিনি সহযোগে বিশেষ লাড্ডু তৈরি করে মাকে নিবেদন করেন। তিথি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় মেনেই পূজোর হোম-যজ্ঞ শুরু করতে হয়।
অষ্টমী-নবমী সন্ধিক্ষণে, সন্ধী পুজোতে মায়ের বিশেষ উপাচার হিসেবে ১০৮ পদ্মফুলের সঙ্গে লাল শালুকফুল ও শ্যামা ঘাস নিবেদন করতে হয়। প্রতিদিন ওই মৃত্তিকা দিয়ে শিবলিঙ্গ তৈরি করতে হয়। প্রথমে বিষ্ণু, শিব তারপর মা দুর্গার পুজো শুরু চণ্ডীপাঠ এর মধ্যে দিয়ে। দশমীর দিন ভোর বেলায় মঙ্গল আরতিতে যোগদান করেন পরিবারের ৮ থেকে ৮০ সকলেই। সারা বছর কর্মের জন্য বাড়ির বাইরে থাকলেও পুজোর সময় সকল সদস্যই ফিরে আসেন মায়ের আরাধনার জন্য। বাইরে কোথাও ঠাকুর দেখতে যাওয়া ঘোরা নয় বরং নিজেদের মন্দিরে পরিবারের লোকজনেরা সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ করাটাই তাদের কাছে দুর্গাপুজোর মূল প্রাধান্য।
ইদানিংকালে দশমীর দিন পড়্যা পরিবারের বিবাহ যোগ্যা ছেলেদের কোলে লক্ষ্মী দেওয়ার বিশেষ রীতি শুরু হয়েছে। যাতে পরিবারে নববধূরা মা লক্ষ্মী রূপ নিয়ে আসে। মনের মধ্যে একরাশ বিষাদের সুর নিয়েই দশমীর সন্ধ্যায় মায়ের বরণ শেষে মেতে উঠেন সিঁদুর খেলায়। মায়ের বিদায় শেষে অপেক্ষা আবারও একটি বছরের।
