ওঙ্কার ডেস্কঃ কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এই প্রথম। কলকাতার কাউন্সিলরদের জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন, সংস্কার ও পরিষেবা খাতে খরচ সম্ভব হচ্ছে না। স্বভাবতই সরকারি আর্থিক নিয়মে কাউন্সিলর তহবিলের ১০০ কোটির বেশি ট্রেজারিতেই ফিরে যাবে বলে মেনে নিয়েছে পুরসভার অর্থবিভাগ। পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘‘আগে থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নানা প্রকল্পখাতে যেখানে যে পরিমাণ অর্থ ধরা আছে সেখানে সেই নির্মাণ ও মেরামতের কাজগুলি যথারীতি হচ্ছে।’’
সূত্রের খবর, প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে ওয়ার্ড পিছু ৬৫ থেকে ৭৫ লাখের তহবিল বরাদ্দ হলেও প্রকল্পখাতে ব্যয় করা যাচ্ছে না। বাজেট বরাদ্দর পরেই প্রথমে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা ও পরে মেয়রের ইস্তফায় পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় ১৪৪ ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর না থাকায় প্রকল্পের সুপারিশ হচ্ছে না।
অন্যদিকে, নভেম্বরের শেষে পুরভোটের পর ডিসেম্বরে নয়া পুরবোর্ডের কাউন্সিলরদের সুপারিশ ও তারপর বরো এবং মেয়র পারিষদের বৈঠক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে এবছর বরাদ্দ অর্থ খরচের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলে দাবি পুরসভার শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের।
বরাদ্দ অর্থ খরচ করতে না পারায় বিজেপির পুর-দলনেতা মীনা দেবী পুরোহিতের অভিযোগ, ‘‘মেয়র ইস্তফা না দিলে তো বোর্ড ভাঙত না, তা হলে কাউন্সিলররা সবাই তহবিল খরচ করতে পারতেন। এখন পুরো ‘ফান্ড’ সরকারের ঘরে ফেরত চলে যাবে।’’ এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নে নয়া বিপদের আশঙ্কা করেছেন বামফ্রন্টের পুর-দলনেতা মধুছন্দা দেব। দাবি করেছেন,‘‘নিয়ম মেনে টাকা খরচ না হওয়ায় পরের আর্থিক বছরে ওয়ার্ড পিছু বরাদ্দ কম হতে পারে। যদিও এবছরই ব্য তিক্রমী প্রশাসনিক জটিলতা হয়েছে, রাজ্য্ সরকার নিশ্চয়ই ভেবে দেখবে।’’ অন্যদিকে বিদায়ী বোর্ডের মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমার জানিয়েছেন, ‘‘কাউন্সিলরদের তহবিল খরচ না হওয়ায় বাজেটের ঘাটতি কমে যাবে।’’