নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : রাত গড়ালেও কলকাতার বহু জায়গায় এখনও পর্যন্ত হাঁটুর উপরে জল, কোথাও বা কোমর ছুঁই ছুঁই। বিশেষ করে ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট, এন্টালি, গড়িয়াহাট, বিজন সেতুর নীচের এলাকা, মেটিয়াবুরুজ, সরশুনা, জোকা-সহ বেশ কিছু এলাকায় রাত দশটার পরও জলমগ্ন রয়েছে, কোথাও বা বিক্ষিপ্ত ভাবে জমে রয়েছে গত রাতের বর্ষার জল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “সকালের বানভাসি পরিস্থিতির খানিকটা হলেও উন্নতি হয়েছে। পুরসভার কন্ট্রোল রুম থেকে সর্বক্ষণ নজরদারি চলছে। রাতের মধ্যেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে”। তিনি বলেন, ‘‘এটা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এর আগে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কাল থেকে ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পাম্প বসিয়ে পুরসভা জল নামানোর চেষ্টা করেছে। এখন ঠনঠনিয়া-সহ কয়েকটা জায়গা বাদ দিয়ে অনেক জায়গাতেই জল নেমে গিয়েছে।’’

তবে বৃষ্টির কারণে গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তার উপর মঙ্গলবার গঙ্গায় ছিল ভরা বাণ। শহরের সবক’টি নিকাশি খাল কাণায় কাণায় ভরে যাওয়ায় প্রবল বৃষ্টির ফলে জমা জল বেরানো অসম্ভব হয়ে ওঠে।। ফলে নিকাশি খালে জল ফেলা হলেও আবার তা শহরের মধ্যেই ফিরে আসে। মেয়র জানিয়েছেন, ‘‘ক্যানালে জল ফেললে তা আবার ব্যাক ফ্লো হয়ে ফিরে আসছে। সকালে এই কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সেই জলটাকে আবার সরাতে হয়েছে আমাদের।’’
এদিন কলকাতার বৃষ্টি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দেহরাদূন কিংবা জম্মুর সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথারও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, “কলকাতায় এর আগে এত বৃষ্টি শেষ কবে হয়েছে, মনে করতে পারছেন না অনেকেই। আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কলকাতায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২,৬৬৩ শতাংশ বেশি”।
এর আগে ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে ২৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল কলকাতায়। সেই হিসাবে এটি শহরে বৃষ্টির এতদকালে সেরা রেকর্ড। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করেছে পুরসভা। সে জন্য নিকাশি বিভাগের কর্মচারী থেকে শুরু করে পুরসভার সমস্ত আধিকারিককেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফিরহাদ। মেয়র বলেছেন, ‘‘আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ছি। ওঁরা সারা দিন লড়াই করেছেন এবং এখনও লড়ে যাচ্ছেন। কিছু জায়গায় আমরা সহ-নাগরিকদের হারিয়েছি। তবে পুলিশ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়েছি।’’
