ওঙ্কার ডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনের পর ধরাশায়ী হয়ে পরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির কাছে এক তৃতীয়াংশ আসনে হারার পর বড় ধাক্কা ছিল তৃণমূলে অন্দরে ভাঙন। ৮০ জন বিজয়ী বিধায়কদের মধ্যে ৬২ জন বিধায়কদের নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে বলে দাবি করেন ঋতব্রত ব্যানার্জি। বিধানসভায় ধাক্কা খাওয়ার পর রাজ্যসভায়ও বড়সড় আঘাত পায় দিল্লিতেও। ২৮ জন তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে আসমের বেনামী তথা ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলে যোগ দেয়। আর এতেই একদা ১৫ বছর ধরে বাংলায় রাজ করা তৃণমূল কংগ্রেস এখন টুকরো টুকরো হয়ে বিভক্ত। এই সবের মাঝেই সমাজমাধ্যমে লাইভ এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন ২১-এ জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হবেই।
২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। সেই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—সমাবেশ হবেই। তাঁর বক্তব্য, কোনও বাধাই ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি আটকাতে পারবে না। এই সমাবেশ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নিহত ১৩ জন শহিদকে শ্রদ্ধা জানানোর দিন বলেই দাবি করেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রশাসনিক নানা বাধা তৈরি করে ঐতিহ্যবাহী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তৃণমূল সেই চেষ্টার কাছে মাথা নত করবে না। প্রয়োজনে আইনি পথেও লড়াই চালানো হবে বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, শহিদ দিবসের ইতিহাস কোনও প্রশাসনিক নির্দেশে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে শহিদ দিবস পালিত হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। সমাবেশের অনুমতি, স্থান এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি কোন তৃণমূল শহিদ দিবস পালন করবে সেই নিয়েও চলেছে দ্বন্দ্ব। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মী-সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।