ওঙ্কার ডেস্ক: বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চন বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকের তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
জানা গিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছেই জয়া বচ্চন সরাসরি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে স্বাগত জানান। দুই নেত্রীর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে একান্তে আলোচনা হয়। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে উপস্থিত হন। এরপর তিনজনের মধ্যে কিছু সময় কথাবার্তা হয়। যদিও বৈঠকের পর কেউই আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আনেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয়া বচ্চনের ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। সংসদীয় রাজনীতি হোক বা বিরোধী জোটের বিভিন্ন বৈঠক, দুই নেত্রীর মধ্যে সুসম্পর্কের ছবি বারবার সামনে এসেছে। সেই কারণেই এদিনের এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলগুলির পারস্পরিক সমন্বয়, সংসদের বিভিন্ন বিষয় এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সূত্রেই এই দেখা করা।
উল্লেখ্য, জয়া বচ্চন বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ও তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে প্রচারে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। একইভাবে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিকবার একই অবস্থানে দেখা গিয়েছে। ফলে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।