ওঙ্কার ডেস্ক: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করল। ঘটনায় একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু এবং অনেকের আহত হওয়ার পর কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র একটি নির্মাণ বিপর্যয় নয়, এর সঙ্গে শ্রমিকদের জীবন, নিরাপত্তা এবং মর্যাদার অধিকারের প্রশ্নও জড়িত। সেই কারণেই কমিশন রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
এনএইচআরসি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালকের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন জানতে চেয়েছে, কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, উদ্ধারকাজ কত দ্রুত শুরু করা হয়েছিল এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে কী ধরনের সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, তাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এই ঘটনা শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। কর্মস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বা নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে থাকলে তা শ্রমিকদের মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। সেই কারণেই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।
গত বুধবার তারাতলার ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতল গুদামের বিশাল ইস্পাত কাঠামো আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান অনেকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা। পরে উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয় এবং একাধিক আহত শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পুরো ঘটনার পুর্ণ তদন্তের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।