ওঙ্কার ডেস্ক: বহুচর্চিত আইন কলেজ গণধর্ষণ মামলায় ঘটনার এক বছরের মধ্যেই বিচারপর্ব শুরু হওয়ায় রাজ্যে ফের সামনে এসেছে নারী নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার দ্রুততার প্রশ্ন। আলিপুর আদালতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে সম্প্রতি এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়েছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র, যিনি ‘ম্যাংগো’ নামে পরিচিত, এবং তার দুই সহযোগী জায়েব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায় বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় জেল হেফাজতে রয়েছে। কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলায় অভিযুক্ত হলেও তিনি জামিনে মুক্ত।
মামলার শুনানির শুরুতেই আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, ভিডিও ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং ইলেকট্রনিক ডেটার বিশদ বিশ্লেষণ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও, ফোনের ডেটা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এই সমস্ত তথ্য আদালতে পেশের মাধ্যমে প্রসিকিউশন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনার মাত্র ৫৮ দিনের মধ্যেই পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়, যা সাধারণত এ ধরনের জটিল মামলায় বিরল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মোট ৮৩ জন সাক্ষীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং তদন্তকারী অফিসারদের সাক্ষ্য এই মামলার পরবর্তী ধাপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
চার্জশিট অনুযায়ী, কলেজের ইউনিয়ন রুমে প্রথমে নির্যাতিতাকে শ্লীলতাহানি করা হয়। এরপর তাকে জোর করে গার্ডরুমে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল করারও অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে এবং নির্যাতিতাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল।
এই মামলার দ্রুত বিচারপর্ব শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা মিললেও সমাজের বিভিন্ন অংশের দাবি, শুধু দ্রুত বিচার নয়, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল অপরাধে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রমাণ বিশ্লেষণের উপর। রাজ্যের অন্যতম আলোচিত এই মামলার অগ্রগতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।