ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে বিমান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জেরে যাত্রীদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়তে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল-এর লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ানে অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ আরোপের ঘোষণা করেছে সংস্থা। ইতিমধ্যেই সংশোধিত ভাড়া কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে নতুন করে টিকিট কাটতে গেলে যাত্রীদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জেট ফুয়েলের দাম হু হু করে বাড়ায় পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে চাপের কারণে বিমান পরিষেবা বজায় রাখা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। সেই কারণেই সংস্থা ভাড়া কাঠামোয় পরিবর্তন এনে ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানোর পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে।
দেশীয় উড়ানের ক্ষেত্রে দূরত্বভিত্তিক নতুন সারচার্জ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। স্বল্প দূরত্বের রুটে তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। একইভাবে আন্তর্জাতিক রুটে অঞ্চলভেদে এই অতিরিক্ত খরচ আরও বেশি, যা যাত্রীদের সফর ব্যয় অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে, নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রেই এই সংশোধিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। পূর্বে বুক করা টিকিটে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব পড়বে না, তবে ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আনলে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।
বিমান পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা বাড়লে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ যাত্রীদের উপর। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বিমান সফর করেন বা বিদেশ যাত্রার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য খরচ আরও বাড়তে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রের ব্যয়বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হল। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয়ের চাপে আগামী দিনে অন্যান্য বিমান সংস্থাও একই পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বিমানযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।