ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটগণনার প্রাক্কালে কলকাতার কালীঘাট থানায় ফের বড় প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কালীঘাট থানার ওসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল চামেলী মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেলেন বলাই বাগ। এর ফলে গত এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে কালীঘাট থানায় একাধিকবার ওসি পরিবর্তনের নজির তৈরি হল, যা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন পর্ব চলাকালীন কালীঘাট থানাকে ঘিরে প্রশাসনিক নজরদারি বরাবরই বেশি ছিল। কারণ এই থানা এলাকার মধ্যেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন, ফলে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব দুই দিক থেকেই কালীঘাট অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এর আগেও এই থানার দায়িত্বে থাকা গৌতম দাসকে সরানো হয়েছিল। তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে, যেখানে উর্দি পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর ছবি প্রকাশ্যে আসে। নির্বাচন চলাকালীন এমন ছবি ঘিরে প্রশ্ন ওঠে পুলিশি নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি নিয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের পর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়।
গৌতম দাসের পরিবর্তে চামেলী মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বদলিও স্থায়ী হল না। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের নির্দেশিকা জারি করে তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং নির্বাচনকালীন সংবেদনশীলতা মাথায় রেখেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ওসি বলাই বাগ এর আগে ভাঙড় ডিভিশনের পোলেরহাট থানায় অতিরিক্ত ওসি পদে কর্মরত ছিলেন।
নির্বাচনের আবহে রাজ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক ও পুলিশি পদে রদবদল নতুন নয়, তবে কালীঘাট থানায় এত ঘন ঘন পরিবর্তন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল ঘোষণার আগে গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলিতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সেই কারণেই প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এত দ্রুত এবং ধারাবাহিক বদলি প্রশাসনিক স্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতেই এই পদক্ষেপ।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে এবং কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত না করে, সেই লক্ষ্যেই কালীঘাট থানায় এই ধারাবাহিক পরিবর্তন বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে কালীঘাট থানাকে কেন্দ্র করে এই রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।