ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূলের দুর্গ বিধ্বস্ত হয়েছে। রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতায় বসতে চলেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে যে যে সুবিধা উপভোগ করতেন, তা ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে পুলিশের তরফে। মঙ্গলবার সকালে কালীঘাটে মমতার বাড়ির গলির মুখের ‘সিজার ব্যারিকেড’ তুলে নেওয়া হল। এত দিন সাধারণ মানুষের এই পথে চলাচলে বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর পরাজয়ের পর সেই রাস্তা এখন অবাধ। যে কেউ চাইলেই সেই পথ দিয়ে যেতে পারবেন এখন।
রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত দিন ছিলেন তৃণমূলনেত্রীর বাড়ির দিকে রাস্তায় যেতে হলে পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো। যাতায়াতে কড়াকড়ি ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাওয়া হত। কোন উদ্দেশে কী কাজে তিনি যাচ্ছেন তা জানাতে হতো পুলিশকর্মীদেরকে। মঙ্গলবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষী ছিল, তবে সেই ব্যরিকেড তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই পথে যারা গিয়েছেন তাদেরকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে সোমবার। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শাসকের আসনে বসার জন্য বিজেপিকে নির্বাচিত করেছেন। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। আর তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৫ বছর শাসনক্ষমতায় থাকার পর বিরোধী আসনে বসতে চলেছে জোড়াফুল শিবির। ক্ষমতা হারানোর পরেই তৃণমূল সুপ্রিমোর নিরাপত্তা শিথিল করল পুলিশ।