ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ নিয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হলে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে দল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে কীভাবে নির্বাচনী লড়াই চালানো হবে, তা নিয়ে ‘প্ল্যান বি’ তৈরি করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কোনও নতুন প্রতীকের কথা জানানো হয়নি, তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
রাজ্যে পালাবদলের পর রাজনৈতিক ভাবে আঘাতে জর্জরিত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় সিংহভাগ বিধায়ক মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত ‘আসল তৃণমূল’-এ যোগ দিয়েছে। জেলা থেকেও একাধিক দলীয় কর্মীরা ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। এমনকি মমতা ঘনিষ্ঠ ফিরাহাদ, মদন, কেষ্টও মমতার হাত ছেড়ে গেছে। ২১-এ জুলাই পালন নিয়ে মমতা পন্থী তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছিল ঋতব্রত তৃণমূল। আগে থেকেই দলের প্রতীক এবং ফান্ডের দাবিদার বলে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে ঋতব্রতরা। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের দারস্থ হয় বিদ্রোহী তৃণমূল। এই মুহুর্তে দলের প্রতীক হারাতে পারে এই ভাবনায় প্ল্যান-বি তৈরি রাখছে মমতা।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রতীক ব্যবহার করে একাধিক নির্বাচনে লড়াই করেছে তৃণমূল। দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে এই প্রতীক শুধুমাত্র একটি চিহ্ন নয়, বরং দলের রাজনৈতিক ইতিহাস, আন্দোলন এবং সংগঠনের পরিচয়ের অংশ। তাই কোনও পরিস্থিতিতেই এই প্রতীক হারাতে চায় না তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রাখছে কালীঘাট তৃণমূল। যদি ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে যাতে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোনও বাধা না আসে, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের নেতৃত্ব মনে করছে, নির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই আগেভাগেই সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।